আগামী ৭২ ঘণ্টায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায়। একই সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বন্যার আশঙ্কা
দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নদ-নদীর পানি বেড়ে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ৫ জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের ছোট-বড় সব নদ-নদীর পানি আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতে উত্তরের তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে লালমনিরহাটসহ আশপাশের জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সিলেটে নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি
বাংলাদেশের উত্তরের জেলাগুলো থেকে বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করেছে। তবে মধ্যাঞ্চলে এখন বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আত্রাই নদী অববাহিকার এলাকাগুলো নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্ক দেখা দিয়েছে
দেশে চলতি বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করছে তিস্তার পানি। এ অবস্থায় নদীপাড়ের মানুষজন উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন।
তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে তিস্তা পাড়ের মানুষজন বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছে এবং যে কোনো সময় তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
গত দুদিন ধরে আশঙ্কাজনক হারে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে। এদিকে হু হু করে পানি বাড়ায় যমুনার অভ্যন্তরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলের ফসলি জমি। এতে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।